Loading Events

সার্কাস সার্কাস

সুন্দরম, বরিশাল প্রযোজনা

লিখেছেনঃ আজাদ আবুল কালাম
পরিচালনাঃ মোস্তাফিজ শাহীন

সুন্দরম

সুন্দরম প্রতিবন্ধীদের একটি সৃষ্টিশীল শিল্প চর্চা কেন্দ্র যা ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে দেশে ৮ টি বিভাগে আটটি সুন্দরম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা ও ময়মনসিংহে এখন প্রতিনিয়ত শারীরিক, দৃষ্টি ও বাক-শ্রবণপ্রতিবন্ধী মানুষ নানা প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে সৃষ্টিশীল কাজে নিয়োজিত।

ঢাকা থিয়েটার ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে প্রতিবন্ধী নাট্যচর্চা ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয় তারই ধারাবাহিকতার একটি পর্যায়ে সুন্দরম' এর জন্ম হয়। সুন্দরম'র মূল লক্ষ্য দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে মূলধারার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে সংযুক্ত করা। এভাবে দূর হবে প্রতিবন্ধীদের সম্বন্ধে সমাজে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা ও ভাবনা। মেধা ও শারীরিক যোগ্যতানুযায়ী প্রতিবন্ধী শিল্পীদের নানা শাখায় প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের সৃষ্টিশীলতাকে বিকশিত হওয়ার পথ সুগম করা সুন্দরমের মূল লক্ষ্য।

রাষ্ট্র ও সামাজিক কাঠামো এখনো প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে সচেতন ও সহমর্মী করে তুলে সারাদেশে প্রতিবন্ধীবান্ধব সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা। এবং এ প্রক্রিয়ায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ তৈরি করা যেখানে মানুষের প্রতিবন্ধকতার ঊর্ধ্বে মানুষ শুধু মানুষ হিসেবে পরিণতি পাবে।

ব্রিটিশ কাউন্সিল

বিশ্বজুড়েই সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও শিক্ষার সুযোগ নিয়ে কাজ করে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক সংস্থা ব্রিটিশ কাউন্সিল। শিল্প, সংস্কৃতি, ইংরেজি ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যমে আমরা যুক্তরাজ্যের জনগণের সাথে অন্যান্য দেশের জনগণের মধ্যে সংযোগ, বোঝাপড়া ও আস্থা স্থাপনে কাজ করি। অনলাইনে, ব্রডকাস্ট ও বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে গত বছর আমরা সরাসরি ৮০ মিলিয়ন এবং সর্বোপরি ৭শ' ৯১ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছেছি। ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ কাউন্সিল রয়্যাল চার্টার ইউকে পাবলিক বডি দ্বারা পরিচালিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা। আমরা ১৫ শতাংশ অনুদান সহায়তা পাই যুক্তরাজ্য সরকার থেকে।

নির্দেশক

মোস্তাফিজ শাহীন

১৯৯৬ সালে গোর্কি থিয়েটার এর মাধ্যমে থিয়েটার যাত্রা শুরু মোস্তাফিজ শাহীন এর। এরপরে অনুশীলন নাট্যগোষ্ঠী থেকে সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটার (সি এ টি) হয়ে ২০০২ সাল থেকে অদ্যাবধি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নিয়মিত সদস্য। ভারত, সুইডেন, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন উৎসবে অভিনয় এবং কর্মশালার মাধ্যমে আর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুনী নির্দেশক এর সান্নিধ্যে ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমেই মূলত অভিনয় এবং নির্দেশনার শিক্ষা। থিয়েটার এর খণ্ডকালীন প্রশিক্ষক হিসেবে ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব) এ। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন দর্পণ, ডাকঘর, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, নূরলদীনের সারাজীবন সহ অসংখ্য নাটক। সি আর পি তে প্রতিবন্ধীদের সাথে থিয়েটার থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন ২০০২ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ২০১৯ সালের নাগরিক এর উৎসবে "লটারি” নাটকটি মোস্তাফিজ শাহীন এর অন্যতম দর্শক নন্দিত একটি থিয়েটার প্রযোজনা। ২০২৩ সালে ঢাকা লিড ফেস্ট এ যাত্রীক এর আমন্ত্রণ এ বৃটিশ কাউন্সিল এর সহায়তায় লীলা কংক" নাটকটির নির্দেশনা দেন মোস্তাফিজ শাহীন। যে নাটকের ১৫ জন কুশীলবদের সবাই ছিলেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।

নাট্যগল্প

সার্কাস সার্কাস

এ নাট্যের পটভূমি- ভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া অভিন্ন চরিত্রের ঘটনাযুগল। দক্ষিণবঙ্গের বিখ্যাত সার্কাস দল লক্ষন দাসের সার্কাস । সাং- উত্তর বিজয়পুর পোঃ- গৌরনদী, জিং- বরিশাল। দলের কর্ণধার লক্ষণ দাস ঐ ছোট্ট বিজয়পুর জনপদ ছাড়িয়ে তার সুনাম দশ দিক ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন মেধা, কর্ম আর দক্ষতার চোখ ধাঁধানো জৌলুসে। এক দিকে তার উত্থান আর এক দিকে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে পাক বাহিনী তছনছ করে দিচ্ছে একের পর এক লোকালয়, চারিদিকে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। লক্ষণ দাসও রক্ষা পেলেন না। এক প্রতাশে পাকিস্তানী সৈন্যদের হাতে শহীদ হলেন লক্ষণ দাস। তার বসতবাড়ি, সার্কাসের সরঞ্জমানি ভষ্মীভূত হলো। রক্ষা পেল না জীব জানোয়ারগুলো পর্যন্ত। এমন কিংবদন্তী আছে লক্ষণদাস আর তার হাতি প্রাণের ভয়ে দৌড়ায়, পেছনে থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি এস বিধতে থাকে হাতির গায়ে পায়ে মাথায়। হাতি লুটিয়ে পড়লে লক্ষণদাসের গায়ে গুলি লাগে। মৃত্যুর শেষ সীমায় প্রাণীটি প্রভু লক্ষণদাসের হত্যাকান্ড সে সময়ের আর দশটা লৌকিক ঘটনার মতো হলেও দিনে দিনে এক অলৌকিক প্রলেপ পেয়েছে দক্ষিণবঙ্গের জনপদে। অপর ঘটনা আশির দশকের মধ্যভাগে “সোনার বাংলা সার্কাস” নামের একটি হত দরিদ্র দল যায় সমুদ্র তীরবর্তী শহর কক্সবাজারে, মাসাধিক কালের জন্য তাদের প্রদর্শনী হওয়ার কথা। আসতেই ক্ষীণ স্বরে কিছু মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন বাঁধ সাধে অসামাজিক কার্যকলাপের দোহাই দিয়ে। এই ক্ষীণ সতর্কীকরণ মধ্যস্থাতাকরিদের আর্থিক চাঁদা দেবার শর্তে সুরাহা হয়, কিন্তু সার্কাস দল টাকার অঙ্কটি বড় হবার কারণে তা দিতে না পারায় একদিন গভীর রাতে অতর্কিতে নারায়ে তাকবির ধ্বনি শোনা যায়, একদল মানুষ জেহাদী জোশে ঝাপিয়ে পড়ে ঘুমন্ত সার্কাস দলের প্যান্ডেলে। মুহুর্তে সর্বত্র আগুন ধরে যায়। দাউ দাউ করে জ্বলে খাঁচায় বন্দি জীব-জানোয়ার, খেলোয়াড়, ক্লাউন, লাঞ্চিত হয় মেয়েরা রাতভর। ভোর হয়, ইতস্তত বিক্ষিপ্ত পড়ে থাকে হতাহত জীব জানোয়ার মানুষ আগুনের শেষ চিহ্ন, ধোঁয়ার কুন্ডলী, আহাজারী আর প্রেক্ষাপটে সূর্যের ম্লান আলোর মধ্যে একে একে আসে আগুন নেভানো গাড়ি, প্রতিরক্ষী, পুলিশ, পাহারাদার, প্রশাসন, সাংবাদিক, মান্যগন্য- গণ এই বহ্নি উৎসবে। এই নাটোর কাহিনী এমনতর "দি গ্রেট বেঙ্গল সার্কাস" এককালে নাম ডাক ছিল প্রতিষ্ঠাতা লক্ষণ নাসের কারণে। তার ভাই সাধন দাস কষ্টে শিষ্টে দলটিকে চালাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধে যে দলটি নিঃস্ব হয়েছিল তাকে আবার একটু করে সংগঠিত করে বিভিন্ন অঞ্চলে সার্কাস প্রদর্শনের ধারাবাহিকতায় একটি আমন্ত্রণে দলবল নিয়ে সাধন দাস এসেছেন নবগ্রাম। দলে সমস্যার অন্ত নেই- খেলোয়াড়েরা সবাই পারদর্শী এমনটা বলা যাবে না। খেলোয়াড়দের মধ্যকার ব্যাক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়নে সবাই তটস্থ। শুরুতে কিছু মৌলবাদী সংগঠন সার্কাস প্রদর্শনে বাধ সাথে ধর্মের সামাজিকতার দোহাই দিয়ে। সাধন দাস বিপাকে পড়ে যান কিন্তু পূর্ব শিক্ষা তাকে যেমন করেছে সংশয়ী তেমনি আবার করেছে নিঃশংকচিত্ত। মুখোমুখি হয়ে যায় দুটো পক্ষ। এর মাঝে বিভিন্ন দিক থেকে আসতে থাকে একর পর এক সাবধান বানী, চারীদিকে সবাই যেন তাকে ভয় দেখায়। এমনকি দলের খেলোয়াড়রা পর্যন্ত। দলের একটি মেয়ে নিখোঁজ হয়। মা বাঘটি ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে যেন। যাদের কথায় সার্কাস দলটি প্রতায় পাবে আশা করে তারা শুধু কথার আশ্বাসে ভোলায়। এমনি এক অনিশ্চিয়তার মাঝখানে মুসলিম মৌলবাদী সংগঠনগুলো একত্র হয়ে গভীর রাতে হামলা চালায়। আগুন ধরিয়ে দেয় প্যান্ডেলে। একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে তিন জন খেলোয়াড়। আগুনে পুড়ে মারা যায় জীব জানোয়ার, ভষ্মীভূত হয় “ দি গ্রেট বেঙ্গল সার্কাস সমুদয় সম্পদ। সেই ধোঁয়ার কুন্ডলীর মাঝেও কেউ একজন খুঁজে ফেলে সন্তানসম্ভাবা বাঘটিকে। পুরো উপাখ্যানটি একটি নিকট অতীত কালে ঘটে যাওয়া ঘটনা।

মঞ্চে

রুমানা আক্তার
লাইজু আক্তার
কাওসার সিকদার
ইমরান হোসেন
ইব্রাহিম সরদার
মার্সেল সরকার
ইমরান হোসেন
বাইজিদ হোসেন
লিজা আক্তার
রাকিব হোসাইন
এ বি এম আতাউর রহমান সোহেল
আফরোজা আক্তার নিপা
অপূর্ব কর্মকার
তরিকুল ইসলাম
মনি আক্তার
সুকান্ত চন্দ্র হাওলাদার
সোনিয়া আক্তার
মোঃ সাকিবুল ইসলাম
শফিউল রাজ
মো. আবু হাসনাত হাসিব
সুকান্ত চন্দ্র হাওলাদার

যন্ত্রানুসঙ্গ
মো. আবু হাসনাত হাসিব
সুরভী জাহান নিশি
সুকান্ত চন্দ্র হাওলাদার
সোনিয়া আক্তার

নেপথ্যে

রচনাঃ আজাদ আবুল কালাম
নির্দেশনা, মঞ্চ পরিকল্পনা, আবহ সংগীত পরিকল্পনা, পোশাক পরিকল্পনা, কোরিওগ্রাফি মোস্তাফিজ শাহীন
আলোক পরিকল্পনাঃ অম্লান বিশ্বাস
সহকারী নির্দেশনাঃ কৃষ্ণা সন পূজা, শেখ মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন
আবহ সংগীত সহযোগিতাঃ মো. আবু হাসনাত হাসিব, শিমুল সাইফুল
পোস্টার ডিজাইনঃ ফারহিন খান জয়িতা
দ্রব্য সামগ্রী নির্মাণঃশেখ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন
প্রযোজনা অধিকর্তাঃ মো. আবু হাসনাত হাসিব